রেটিনল বা এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড কীভাবে শুরু করবেন, ত্বক নষ্ট না করে
Skinmax · · ৫ মিনিটে পড়া · Read this guide in English
একবারে একটা অ্যাকটিভ দিয়ে, কম শক্তির, সপ্তাহে দুই রাত শুরু করুন। দুই সপ্তাহ আরামে কাটলে তিন রাত, তারপর এক রাত পরপর। রেটিনয়েড আর এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড কখনো একই রাতে নয়: পালা করে দিন। প্রতিদিন সকালে সানস্ক্রিন দিন, কারণ দুটোই ত্বককে রোদে বেশি পোড়ায়। যেখানে সাধারণত ব্রণ হয় সেখানে ছোট ব্রণ পার্জিং হতে পারে, যা মোটামুটি ছয় সপ্তাহে থামে; জ্বালা, লালচে ভাব আর চামড়া ওঠা মানে থামুন, ব্যারিয়ারকে সারতে দিন।
রেটিনল আর এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড এমন উপাদান যা ত্বকের চেহারা সবচেয়ে বেশি বদলাতে পারে, আর তাড়াহুড়ো করলে সবচেয়ে বেশি গোলমালও করে। আমাদের স্কিন টেস্ট এখন জিজ্ঞেস করে আগে এগুলো ব্যবহার করেছেন কি না, কারণ প্রথম ধাপ কী হবে তা উত্তরের ওপর নির্ভর করে। না করে থাকলে এই গাইড আপনার জন্য।
এগুলো আসলে কী করে
রেটিনয়েড (রেটিনল, রেটিনাল আর প্রেসক্রিপশনের ওষুধগুলো) ত্বকের কোষকে দ্রুত নতুন হতে বলে। মাসের পর মাসে এতে টেক্সচার মসৃণ হয়, সূক্ষ্ম রেখা নরম হয়, পোর পরিষ্কার থাকে আর দাগ হালকা হয়। রেটিনাল রেটিনলের চেয়ে দ্রুত কাজ করে, একটু বেশি শক্তিশালীও।
AHA, যেমন গ্লাইকোলিক আর ল্যাকটিক অ্যাসিড, ত্বকের ওপরের মরা কোষের মাঝের আঠা গলিয়ে দেয়, ফলে ত্বক উজ্জ্বল আর মসৃণ দেখায়। সাধারণগুলোর মধ্যে গ্লাইকোলিক সবচেয়ে শক্তিশালী।
BHA, মানে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, তেলে মেশে, তাই পোরের ভেতরে কাজ করে। ব্ল্যাকহেড, বন্ধ পোর আর তৈলাক্ত, ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য এটাই।
অ্যাজেলাইক অ্যাসিড এদের মধ্যে কোমল। এটা প্রায় এক্সফোলিয়েট করে না, লালচে ভাব শান্ত করে আর ব্রণের দাগ হালকা করে। বেশিরভাগ মানুষ প্রথম দিন থেকেই এটা সহ্য করেন, তাই নিচের ধীর সময়সূচি এর বেলায় কম জরুরি।
শুরু করুন একটা দিয়ে
জনপ্রিয়তা দেখে নয়, সমস্যা দেখে বাছুন:
- ব্ল্যাকহেড, তেলতেলে টি-জোন, বন্ধ পোর: BHA দিয়ে শুরু।
- নিস্তেজ ভাব, খসখসে টেক্সচার, রয়ে যাওয়া ট্যান: AHA দিয়ে শুরু।
- সূক্ষ্ম রেখা, অসমান টেক্সচার, যে দাগ যায় না: রেটিনয়েড দিয়ে শুরু।
একটাই। দুটো একসঙ্গে শুরু করে ত্বকে প্রতিক্রিয়া হলে বুঝবেন না কোনটার জন্য হলো।
নতুনদের প্রোডাক্ট, আর কোনগুলো পরে
BHA শুরুর সবচেয়ে সহজ উপায় ধুয়ে ফেলা ক্লেনজার, কারণ এটা মুখে থাকে এক মিনিটেরও কম। COSRX Salicylic Acid Daily Gentle Cleanser আর CeraVe SA Smoothing Cleanser দুটোই এত মৃদু যে ত্বক অভ্যস্ত হলে প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়। মুখে রেখে দেওয়ার মতো ধাপের জন্য COSRX AHA/BHA Clarifying Treatment Toner মৃদু।
AHA-র জন্য The Ordinary Glycolic Acid 7% Exfoliating Toner, রাতে তুলোর প্যাডে বুলিয়ে।
প্রথম রেটিনয়েড হিসেবে The Ordinary Retinol 0.2% in Squalane। স্কোয়ালেন বেস একে নরম করে। মোটামুটি তিন মাস পর ত্বক খুশি থাকলে পরের ধাপ Celimax The Vita-A Retinal Shot Tightening Booster।
শক্তিশালী মিশ্রণগুলো পরে। কয়েকটা অ্যাসিড একসঙ্গে থাকা প্যাড আর টোনার, যেমন Some By Mi AHA BHA PHA 30 Days Miracle Toner বা Medicube Zero Pore Pad 2.0, একটা অ্যাসিড ভালোভাবে মানিয়ে গেলে তবেই। The Ordinary AHA 30% + BHA 2% Peeling Solution দশ মিনিটের ধুয়ে ফেলা পিল, প্রথম প্রোডাক্ট নয়।
কত ঘন ঘন, সপ্তাহ ধরে
- প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহ: সপ্তাহে দুই রাত, মাঝে অন্তত দুই রাত বিরতি।
- তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহ: কোনো জ্বালা না হলে সপ্তাহে তিন রাত।
- তারপর: এক রাত পরপর। কেউ কেউ রেটিনয়েড প্রতি রাতে নিয়ে যান; অনেকের কখনো দরকারই হয় না।
পুরো মুখে মটরদানা পরিমাণ রেটিনয়েড, মুখ ধোয়ার পর শুকনো ত্বকে। চোখের কোণ, নাকের পাশ আর ঠোঁট এড়িয়ে চলুন। ত্বক শুষ্ক বা সহজে জ্বালা করলে আগে ময়েশ্চারাইজার, তার ওপর রেটিনয়েড। তখনও কাজ করে, শুধু আরও কোমলভাবে।
কখনো একই রাতে নয়
একই রাতে রেটিনয়েড আর এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড, এটাই ব্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। পালা করে দিন। দুটোতেই অভ্যস্ত হওয়ার পর একটা সপ্তাহ এমন হতে পারে:
- সোমবার: রেটিনয়েড।
- মঙ্গলবার: বিশ্রামের রাত, শুধু ক্লেনজার আর ময়েশ্চারাইজার।
- বুধবার: অ্যাসিড।
- বৃহস্পতিবার: বিশ্রামের রাত।
- শুক্রবার: রেটিনয়েড।
- শনি ও রবিবার: বিশ্রাম।
বিশ্রামের রাত পরিকল্পনারই অংশ, ফাঁকি নয়। অ্যাকটিভের রাতে স্ক্রাব, পিল প্যাড আর ক্লে মাস্কও বাদ দিন। সকালে ধুয়ে ফেলা BHA ক্লেনজার, দুটোতেই অভ্যস্ত হওয়ার পর, একমাত্র মিল যা বেশিরভাগ মানুষ সহ্য করেন। পুরো রুটিনে কোন ধাপ কোথায়, দেখুন স্কিনকেয়ার রুটিনের ক্রম।
সানস্ক্রিন এখন বাধ্যতামূলক
অ্যাসিড আর রেটিনয়েড দুটোই ত্বককে রোদে সহজে পোড়ায়, আর আমাদের রোদে এতে সব কাজ দ্রুত নষ্ট হয়: যে ট্যান, দাগ আর টেক্সচারের চিকিৎসা করছিলেন, তা ফিরে আসে। প্রতিদিন সকালে দুই আঙুল পরিমাণ SPF 50, মেঘলা দিনেও, জানালার পাশে ডেস্কে বসে থাকলেও। আমাদের সানস্ক্রিন গাইড এমন একটা খুঁজতে সাহায্য করবে যা সত্যিই মাখবেন।
পার্জিং নাকি জ্বালা?
এই উপাদানগুলো ত্বক নতুন হওয়ার গতি বাড়ায়, তাই যে ব্রণ আগেই তৈরি হচ্ছিল তা আগেভাগে বেরিয়ে আসতে পারে। একেই পার্জিং বলে। এটা দেখতে ছোট দানা বা হোয়াইটহেড, যেখানে সাধারণত ব্রণ হয় সেখানেই, শুরু হয় প্রথম কয়েক সপ্তাহে, আর মোটামুটি ছয় সপ্তাহে স্পষ্টভাবে কমে আসা উচিত।
এটা পার্জিং নয়, আর থামা উচিত, যদি:
- যা-ই লাগান, এমনকি ময়েশ্চারাইজারেও, জ্বালা বা পোড়া ভাব হয়;
- ত্বক লাল, টানটান, চকচকে হয় বা পরতে পরতে চামড়া ওঠে;
- যেখানে কখনো ব্রণ হয় না সেখানে দানা ওঠে;
- ছয় থেকে আট সপ্তাহ পরেও উন্নতি না হয়।
এটা জ্বালা, আর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ারের পথে। সব অ্যাকটিভ বন্ধ করুন, ফিরে যান ক্লেনজার, সেরামাইড ক্রিম আর সানস্ক্রিনে, আর দুই সপ্তাহ জ্বালা ছাড়া না কাটা পর্যন্ত আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ারের গাইড মেনে চলুন। তারপর আবার, আরও ধীরে শুরু করুন।
কারা অপেক্ষা করবেন
গর্ভাবস্থায়, গর্ভধারণের চেষ্টায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় রেটিনয়েড পুরোপুরি বাদ দিন, আর যেকোনো অ্যাসিডের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। সাধারণত কী নিরাপদ ধরা হয়, তা আছে আমাদের গর্ভাবস্থায় নিরাপদ স্কিনকেয়ার গাইডে। স্কিন টেস্টে "Leave them out of my routine" বেছে নিলে রুটিনে এগুলো থাকবে না।
ডাক্তার যদি ট্রেটিনইন, অ্যাডাপালিন বা কড়া অ্যাসিড দিয়ে থাকেন, তাহলে এই সূচি নয়, তাদের সূচি মানুন। আর ত্বক খুব সংবেদনশীল হলে বা রোজেশিয়া থাকলে শুরু করুন অ্যাজেলাইক অ্যাসিড দিয়ে: Anua Azelaic Acid 10 Hyaluron Redness Soothing Serum বা The Ordinary Azelaic Acid Suspension 10%।
ত্বক ফুলে গেলে, ফোসকা পড়লে বা ফেটে গেলে, কিংবা ব্রণ গভীর আর ব্যথাযুক্ত হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান: সেটা দোকানের প্রোডাক্টের কাজ নয়। এখানে যা কিছুর নাম আছে সবই আমরা বিক্রি করি, তাই আমাদের পছন্দ সেটা মাথায় রেখে বিচার করুন।
এই গাইডে যে পণ্যগুলোর কথা আছে
এগুলো আমরা বিক্রি করি, তাই আমাদের পরামর্শ সেই কথা মাথায় রেখে বিচার করুন।
-43%

-39%
-2%
-41%
-21%
-18%
-13%
-23%আরও কিছু প্রশ্ন
- নতুনরা সপ্তাহে কতবার রেটিনল ব্যবহার করবেন?
- প্রথম দুই সপ্তাহ সপ্তাহে দুই রাত, তারপর তিন রাত, তারপর ত্বক আরামে থাকলে এক রাত পরপর। পুরো মুখে মটরদানা পরিমাণ, শুকনো ত্বকে, আর প্রতিদিন সকালে সানস্ক্রিন।
- রেটিনল আর অ্যাসিড কি একই রাতে ব্যবহার করা যায়?
- শুরুতে না। আলাদা রাতে দিন, মাঝে বিশ্রামের রাত রাখুন। দুটো একসঙ্গে লাগানোই স্কিন ব্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- পার্জিং নাকি প্রতিক্রিয়া, কীভাবে বুঝব?
- পার্জিং হলো যেখানে সাধারণত ব্রণ হয় সেখানে ছোট ব্রণ, প্রথম কয়েক সপ্তাহে, আর মোটামুটি ছয় সপ্তাহে থেমে যায়। জ্বালা, লালচে ভাব, চামড়া ওঠা বা নতুন জায়গায় দানা মানে জ্বালাপোড়া: অ্যাকটিভ বন্ধ করে ব্যারিয়ারকে সারতে দিন।
প্রথম প্রকাশ ।এটি ত্বকের যত্নের সাধারণ পরামর্শ, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ত্বকের কোনো রোগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।