ক্ষতিগ্রস্ত স্কিন ব্যারিয়ার: থামুন, সারান, তারপর আবার গড়ুন
Skinmax · · ৪ মিনিটে পড়া · Read this guide in English
ক্ষতিগ্রস্ত স্কিন ব্যারিয়ার ত্বকের ধরন নয়, একটা অবস্থা। সাধারণত বেশি এক্সফোলিয়েশনের পরে হয়: একসঙ্গে কয়েকটা অ্যাসিড, রেটিনল, স্ক্রাব বা কড়া ফেসওয়াশ। লক্ষণ হলো আগে ঠিক থাকা প্রোডাক্টেও জ্বালা, লালচে ভাব, চামড়া ওঠা আর টানটান চকচকে ভাব। প্রথমে সব অ্যাকটিভ বন্ধ করুন। তারপর শুধু মৃদু ফেসওয়াশ, সেরামাইড বা প্যানথেনল ক্রিম আর মিনারেল সানস্ক্রিন, লালচে হলে সেন্টেলা। বেশিরভাগ ব্যারিয়ার দুই থেকে চার সপ্তাহে সেরে ওঠে, তারপর একটা একটা করে অ্যাকটিভ ফেরানো যায়।
আপনার রুটিন
প্রতিটি ধাপ শেষ করে ট্যাপ করুন। আজকের টিকগুলো আমরা মনে রাখব।
পুরো দুই সপ্তাহ জ্বালা না হওয়া পর্যন্ত অ্যাসিড, রেটিনল, ভিটামিন সি, স্ক্রাব বা ক্লে নয়। তারপর একটা অ্যাকটিভ, সপ্তাহে দুই রাত।
ক্যাশ অন ডেলিভারি। সাইজ আর স্টক চ্যাটে কনফার্ম করে দেব।
প্রায়ই শুরুটা ভালো উদ্দেশ্যে হয়। ব্ল্যাকহেডের জন্য BHA, উজ্জ্বলতার জন্য ভিটামিন সি, কারও পরামর্শে রেটিনল, একটা পিলিং টোনার, হয়তো সপ্তাহান্তে স্ক্রাব। কয়েক সপ্তাহ মনে হয় কাজ করছে। তারপর একদিন সাধারণ ময়েশ্চারাইজারেও জ্বালা করে, গাল লাল আর চকচকে দেখায়, আর জায়গায় জায়গায় চামড়া উঠতে শুরু করে।
এটাই ক্ষতিগ্রস্ত স্কিন ব্যারিয়ার, আর যারা ত্বকের অনেক যত্ন নেন তাদের কাছ থেকে আমরা সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাগুলোর কথা শুনি, এটা তার একটি।
ব্যারিয়ার কী
ব্যারিয়ার হলো ত্বকের একদম বাইরের স্তর। একে ইটের দেয়াল ভাবুন: ত্বকের কোষ হলো ইট, আর তাদের মাঝের গাঁথুনি তৈরি চর্বি দিয়ে, মূলত সেরামাইড, কোলেস্টেরল আর ফ্যাটি অ্যাসিড। এই দেয়াল পানি ভেতরে রাখে আর জ্বালা সৃষ্টিকারী জিনিস বাইরে রাখে।
অ্যাসিড, রেটিনয়েড, স্ক্রাব আর ফেনাওয়ালা ফেসওয়াশ সবই দেয়াল পাতলা করে বা গাঁথুনি ধুয়ে ফেলে। একটা একটা করে, বুঝে ব্যবহার করলে ত্বক সামলে নেয়। একসঙ্গে অনেকগুলো হলে পারে না, তখন পানি বেরিয়ে যায় আর যা লাগান সবই সহজে ঢুকে পড়ে।
কীভাবে বুঝবেন
- মাসের পর মাস ব্যবহার করা প্রোডাক্টেও হঠাৎ জ্বালা বা পোড়া ভাব।
- মৃদু ফেসওয়াশেও মুখ ধোয়ার পর টানটান লাগা।
- লালচে ভাব, বিশেষ করে গালে আর নাকের চারপাশে।
- চামড়া ওঠা বা খসখসে জায়গা, কখনো টানটান চকচকে ভাবসহ।
- এসবের সাথে নতুন করে ছোট দানা বা ব্রণ।
সংবেদনশীল বা পানিশূন্য ত্বক থেকে পার্থক্য
সংবেদনশীল ত্বক স্বভাবগতভাবেই সহজে প্রতিক্রিয়া দেখায়, প্রায়ই সারাজীবন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ার কিছু একটা ঘটার ফল, আর এটা সেরে যায়। তিনটা নতুন অ্যাকটিভ যোগ করার আগে ত্বক শান্ত থাকলে এটা প্রায় নিশ্চিতভাবেই ব্যারিয়ার। দীর্ঘমেয়াদি সংবেদনশীলতার জন্য আমাদের সংবেদনশীল ত্বকের গাইড পড়ুন।
পানিশূন্য ত্বকে ঘাটতি পানির, আর হাইড্রেটিং স্তরে তা ঠিক হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ারে ঘাটতি সেই চর্বির যা পানি ধরে রাখে, তাই শুধু পানির মতো সিরাম টেকে না। এর দরকার লিপিড: সেরামাইড আর কোলেস্টেরল। কিছুতে জ্বালা না করলে পানিশূন্য ত্বকের গাইডটাই আপনার জন্য।
প্রথম ধাপ: থামুন
এটাই সবচেয়ে কঠিন আর সবচেয়ে জরুরি অংশ। সব অ্যাসিড (AHA, BHA, PHA), রেটিনল ও রেটিনয়েড, ভিটামিন সি, স্ক্রাব, পিল প্যাড, ক্লে মাস্ক আর ফেনাওয়ালা ফেসওয়াশ সরিয়ে রাখুন। পুরো দুই সপ্তাহ কোনো জ্বালা না হওয়া পর্যন্ত এগুলো বন্ধ রাখুন।
রুটিন তিন-চারটি পণ্যে নামিয়ে আনুন। ভাঙা ত্বকে যত কম জিনিস লাগবে, প্রতিক্রিয়ার সুযোগ তত কম।
দ্বিতীয় ধাপ: সারান
মৃদুভাবে, সম্ভব হলে দিনে একবার মুখ ধুন। সকালে প্রায়ই শুধু পানি বা মুছে ফেলা যায় এমন ক্লেনজারই যথেষ্ট। Cetaphil Gentle Skin Cleanser মুছেও তোলা যায়। রাতে CeraVe Hydrating Facial Cleanser-এর মতো ক্রিম ক্লেনজার, যা ফেনা ছাড়াই পরিষ্কার করে।
সেন্টেলা আর প্যানথেনলে শান্ত করুন। সেন্টেলা এশিয়াটিকা লাল, জ্বালা হওয়া ত্বক শান্ত করে, আর প্যানথেনল (ভিটামিন B5) ত্বককে পানি ধরে রাখতে আর সেরে উঠতে সাহায্য করে। SKIN1004 Madagascar Centella Ampoule শুধু সেন্টেলা। Beauty of Joseon Calming Serum: Green Tea + Panthenol-এ প্যানথেনল আছে, আর Purito Wonder Releaf Centella Serum Unscented সুগন্ধিমুক্ত।
সেরামাইড দিয়ে আবার গড়ুন। রুটিনের মূল অংশ এটাই: সেরামাইডসহ ক্রিম, সম্ভব হলে কোলেস্টেরলসহ, যাতে গাঁথুনি ফিরে আসে।
- গরমে হালকা চাইলে Anua 3 Ceramide Panthenol Moisture Barrier Cream বা COSRX Balancium Comfort Ceramide Cream।
- শুষ্ক ত্বক বা শীতের জন্য CeraVe Moisturizing Cream, Illiyoon Ceramide Ato Concentrate Cream বা Dr.Althea 345 Relief Cream। Dr.Althea 147 Barrier Cream-ও ভালো কাজ করে, তবে এতে সুগন্ধি আছে, তাই আগে সুগন্ধিতে সমস্যা হয়ে থাকলে অন্যটা বেছে নিন।
- Cetaphil Moisturising Cream প্যানথেনল আর নিয়াসিনামাইডসহ সহজ, সুগন্ধিমুক্ত বিকল্প।
চামড়া ওঠা বা কাঁচা জায়গায় রাতে La Roche-Posay Cicaplast Baume B5+-এর পাতলা স্তর ব্যান্ডেজের মতো কাজ করে।
রক্ষা করুন। ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক সহজে পোড়ে আর লাল হওয়া জায়গা কালচে হয়ে যেতে পারে। জিংক অক্সাইডসহ মিনারেল সানস্ক্রিনে সাধারণত জ্বালার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। SKIN1004 Madagascar Centella Air-Fit Suncream Plus-এ সেন্টেলাও আছে।
তৃতীয় ধাপ: ধীরে আবার গড়ুন
দুই সপ্তাহ কোনো জ্বালা না হলে যে অ্যাকটিভটা আপনার সবচেয়ে দরকার সেটা সপ্তাহে দুই রাত দিয়ে ফেরান। আরেকটা যোগ করার আগে দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। একই রাতে কখনো দুটো এক্সফোলিয়েন্ট নয়। জ্বালা ফিরে এলে এক সপ্তাহের জন্য দ্বিতীয় ধাপে ফিরে যান।
বেশিরভাগ ব্যারিয়ার দুই থেকে চার সপ্তাহে সেরে ওঠে। কড়া পিলের মতো গভীর ক্ষতিতে বেশি সময় লাগতে পারে।
কখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
ত্বক থেকে রস ঝরলে, ফেটে গেলে, ফুলে গেলে, খুব ব্যথা হলে, বা চার সপ্তাহ সহজ রুটিনেও উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান। কিছু র্যাশ দেখতে ব্যারিয়ারের ক্ষতির মতো হলেও আসলে অন্য কিছু। আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা স্টেরয়েড ক্রিম, যা প্রায়ই "ফর্সা করার" ক্রিম হিসেবে বিক্রি হয়, ঠিক এই ক্ষতিই করতে পারে, আর নিরাপদে বন্ধ করতে ডাক্তারের সাহায্য লাগে।
এখানে যে পণ্যগুলোর নাম আছে সেগুলো আমরা বিক্রি করি, তাই আমাদের পরামর্শ সেই কথা মাথায় রেখে বিচার করুন। পুরো রুটিনে ফেরার পর কোনটার পর কোনটা লাগাবেন তা জানতে পড়ুন স্কিনকেয়ার রুটিনের ক্রম।
যা করবেন, যা করবেন না
কার্ড সোয়াইপ করুন
মিথ না সত্যি?
০/৪আগে অনুমান করুন, তারপর কারণটা দেখুন।
১ / ৪
“জ্বালা করলে বুঝতে হবে কাজ করছে।”
এটা মিথ। জ্বালা মানে দুর্বল ব্যারিয়ার দিয়ে কিছু ঢুকে ত্বককে বিরক্ত করছে। সুস্থ ত্বকে কাজ করা প্রোডাক্টে ব্যথা হওয়ার দরকার নেই।
২ / ৪
“ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ার আর সংবেদনশীল ত্বক একই জিনিস।”
এটা মিথ। সংবেদনশীল ত্বক স্বভাবগতভাবেই সহজে প্রতিক্রিয়া দেখায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ার কোনো কারণে, সাধারণত বেশি অ্যাকটিভে হওয়া অবস্থা, আর কয়েক সপ্তাহে সেরে যায়।
৩ / ৪
“কম প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ার তাড়াতাড়ি সারে।”
এটা সত্যি। প্রতিটি প্রোডাক্টই ভাঙা ত্বকের জন্য প্রতিক্রিয়ার নতুন কারণ। ছোট, মৃদু রুটিন ব্যারিয়ারকে আবার গড়ার সুযোগ দেয়।
৪ / ৪
“একবার ব্যারিয়ার নষ্ট হলে আর কখনো অ্যাসিড ব্যবহার করা যায় না।”
এটা মিথ। বেশিরভাগ ব্যারিয়ার দুই থেকে চার সপ্তাহে সেরে যায়। তারপর একবারে একটা অ্যাকটিভ, সপ্তাহে দুই রাত, সাধারণত ঠিক থাকে।
এখনো বুঝতে পারছেন না ত্বকের কী দরকার?
WhatsApp-এ জিজ্ঞেস করুন। বিক্রির চাপ নয়, পরামর্শ দেব।
জিজ্ঞেস করুনএই সমস্যার জন্য আমাদের সব পণ্য দেখুন
এই গাইডে যে পণ্যগুলোর কথা আছে
এগুলো আমরা বিক্রি করি, তাই আমাদের পরামর্শ সেই কথা মাথায় রেখে বিচার করুন।
-16%
-25%
-37%
-20%
-1%
-27%


-22%
-6%আরও কিছু প্রশ্ন
- স্কিন ব্যারিয়ার নষ্ট হয়েছে কীভাবে বুঝব?
- মাসের পর মাস ব্যবহার করা প্রোডাক্টেও হঠাৎ জ্বালা করলে, মুখ ধোয়ার পর টানটান লাগলে, আর লালচে ভাব, চামড়া ওঠা বা টানটান চকচকে ভাব থাকলে সাধারণত ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায়ই একসঙ্গে কয়েকটা অ্যাসিড, রেটিনল বা স্ক্রাব ব্যবহারের পরে এটা হয়।
- ক্ষতিগ্রস্ত স্কিন ব্যারিয়ার সারতে কত দিন লাগে?
- কারণটা বন্ধ করলে সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ। শুধু মৃদু ফেসওয়াশ, সেরামাইড বা প্যানথেনল ক্রিম আর সানস্ক্রিন রাখুন, তারপর একটা একটা করে অ্যাকটিভ ফেরান, সপ্তাহে দুই রাত।
- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ার আর সংবেদনশীল ত্বক কি একই?
- না। সংবেদনশীল ত্বক স্বভাবগতভাবেই সহজে প্রতিক্রিয়া দেখায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ার কোনো কারণে হওয়া একটা অবস্থা, সাধারণত বেশি অ্যাকটিভ ব্যবহারে, আর এটা সেরে যায়। যত্ন অনেকটা এক: সুগন্ধিমুক্ত, সেরামাইড, প্যানথেনল আর সেন্টেলা।
প্রথম প্রকাশ ।এটি ত্বকের যত্নের সাধারণ পরামর্শ, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ত্বকের কোনো রোগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।