পানিশূন্য ত্বক: মুখ একসাথে তৈলাক্ত আর টানটান হলে
Skinmax · · ৩ মিনিটে পড়া · Read this guide in English
পানিশূন্য ত্বকে ঘাটতি পানির, তেলের নয়, তাই তৈলাক্ত ত্বকসহ যেকোনো ধরনের ত্বকে এটা হতে পারে। লক্ষণ হলো মুখ ধোয়ার পর টানটান ভাব, ময়েশ্চারাইজার লাগালে মিলিয়ে যাওয়া সূক্ষ্ম রেখা, আর দুপুরের মধ্যে মেকআপ ছোপ ছোপ হয়ে যাওয়া। ফেনাহীন মৃদু ক্লেনজার ব্যবহার করুন, ভেজা ত্বকে পাতলা হাইড্রেটিং স্তর চেপে লাগান, ওপরে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে আটকে দিন, আর গরম পানি ও কড়া ফেনার ফেসওয়াশ বাদ দিন। বেশিরভাগ মানুষ এক-দুই সপ্তাহে পার্থক্য টের পান।
আপনার রুটিন
প্রতিটি ধাপ শেষ করে ট্যাপ করুন। আজকের টিকগুলো আমরা মনে রাখব।
প্রথম দুই সপ্তাহ কোনো অ্যাসিড বা রেটিনল নয়। আগে টানটান ভাব কমুক, তারপর একটা একটা করে ফিরিয়ে আনুন।
ক্যাশ অন ডেলিভারি। সাইজ আর স্টক চ্যাটে কনফার্ম করে দেব।
আমাদের স্কিন টেস্টে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ পানিশূন্যতার কথা বলেন, আর তাদের অনেকেই একই সাথে বলেন ত্বক তৈলাক্ত। শুনে অবাক লাগে। চকচকে মুখে পানির ঘাটতি কীভাবে?
কারণ তেল আর পানি আলাদা জিনিস। তেল তৈরি হয় গ্রন্থিতে, আর পানি ধরা থাকে ত্বকের বাইরের স্তরে। একটা যথেষ্ট থেকেও অন্যটা কম হতে পারে।
শুষ্ক নাকি পানিশূন্য?
শুষ্ক ত্বক একটি ত্বকের ধরন। তেল কম তৈরি হয়, বছরের বেশিরভাগ সময় খসখসে বা আঁশ ওঠা লাগে, আর খুব কমই চকচকে হয়। সেজন্য আমাদের শুষ্ক ত্বকের গাইড।
পানিশূন্যতা একটি অবস্থা। আবহাওয়া, এসি আর রুটিনের সাথে আসে-যায়, আর যেকোনো ধরনের ত্বকে হতে পারে। চেনার উপায় হলো মুখ ধোয়ার পর টানটান ভাব, গালে সূক্ষ্ম কোঁচকানো রেখা যা ময়েশ্চারাইজার দিলে মিলিয়ে যায়, আর নাক তৈলাক্ত থাকলেও দিনে মেকআপ ফেটে বা ছোপ ছোপ হয়ে যাওয়া।
একটা সহজ পরীক্ষা আছে। আঙুল দিয়ে গালের ত্বক আলতো করে ওপরে ঠেলুন। মসৃণভাবে ভাঁজ না পড়ে অনেক সূক্ষ্ম রেখায় কুঁচকে গেলে ত্বকে পানির ঘাটতি আছে।
এখানে কেন এত বেশি হয়
সবচেয়ে বড় কারণ এসি। অফিসের এসি সারাদিন বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে নেয়, আর ত্বক সেই বাতাসে পানি হারায়। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীতও একই কাজ করে। তারপর রুটিন: যে ফেসওয়াশে মুখ "কিচকিচে" পরিষ্কার লাগে, খুব গরম পানি, একসাথে অনেক অ্যাসিড, আর "আমার ত্বক তো তৈলাক্ত" বলে ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়া।
তৈলাক্ত ত্বকের ফাঁদ হলো, ঘষে ধোয়ার পর এক ঘণ্টা ভালো লাগে। তারপর টানটান লাগে, আর আবার ধুয়ে ফেলেন।
হিউমেকট্যান্ট, আর কেন ঢাকনা দরকার
হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, স্নেইল মিউসিন আর সেন্টেলা হলো হিউমেকট্যান্ট: স্পঞ্জের মতো ত্বকের ওপরের স্তরে পানি টেনে আনে। মুখ ধোয়ার ঠিক পরে ভেজা ত্বকে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এসির শুকনো বাতাসে ওপরে কিছু না দিয়ে শুধু এগুলো রেখে দিলে পানি আবার হারিয়ে যেতে পারে, আর আগের চেয়েও বেশি টানটান লাগে।
তাই নিয়ম সহজ: আগে পানির স্তর, ওপরে ময়েশ্চারাইজার। তৈলাক্ত ত্বকে Isntree Hyaluronic Acid Aqua Gel Cream-এর মতো জেল ক্রিমই যথেষ্ট ঢাকনা। শুষ্ক ছোপও থাকলে রাতে CeraVe Moisturizing Cream-এর মতো ঘন ক্রিম বেশি কাজ করে।
কাজের কিছু ছোট কৌশল
- মুখ ধোয়ার এক মিনিটের মধ্যে, বাতাসে শুকানোর আগেই টোনার বা এসেন্স লাগান।
- একবারে ভেজা ঝাপটার বদলে দুই-তিনটি পাতলা স্তরে হাইড্রেটিং টোনার চেপে লাগান।
- সকালে মুখ পরিষ্কার লাগলে ক্লেনজার বাদ দিয়ে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
- রাতে এসি ১৮-তে নয়, ২৫ বা ২৬ ডিগ্রিতে রাখুন। ত্বক আর বিদ্যুৎ বিল দুটোই খুশি থাকবে।
- ডেস্কে ময়েশ্চারাইজারের ছোট টিউব রাখুন, বিকেলে টানটান জায়গায় একটু চেপে লাগান।
- পানি খাওয়া কিছুটা সাহায্য করে, কিন্তু ত্বকের আর্দ্রতা মূলত ওপরের স্তরের ব্যাপার। শুধু দুই লিটার বেশি পানি খেয়ে সমাধান আশা করবেন না।
কখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবেন
টানটান ভাবের সাথে লালচে ভাব, আঁশ ওঠা, চুলকানি বা ফাটা ছোপ থাকলে, আর দুই সপ্তাহ মৃদু যত্নেও না কমলে, এটা সাধারণ পানিশূন্যতা না হয়ে একজিমা বা ডার্মাটাইটিস হতে পারে। ডাক্তার সেটা বুঝে ঠিকমতো চিকিৎসা দিতে পারবেন।
এখানে যে পণ্যগুলোর নাম আছে সেগুলো আমরা বিক্রি করি, তাই আমাদের পরামর্শ সেই কথা মাথায় রেখে বিচার করুন। টানটান ভাব চলে গেলে অ্যাসিড বা রেটিনল ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনতে পারেন; কোনটা কোথায় বসে তা আমাদের রুটিনের ক্রম গাইডে আছে।
যা করবেন, যা করবেন না
কার্ড সোয়াইপ করুন
মিথ না সত্যি?
০/৪আগে অনুমান করুন, তারপর কারণটা দেখুন।
১ / ৪
“তৈলাক্ত ত্বক পানিশূন্য হতে পারে না।”
এটা মিথ। তেল আর পানি আলাদা। তৈলাক্ত ত্বক অনেক তেল তৈরি করেও বাইরের স্তরে পানির ঘাটতিতে থাকতে পারে, আর এসি অফিসে এটা খুবই সাধারণ।
২ / ৪
“বেশি পানি খেলেই পানিশূন্য ত্বক ঠিক হয়ে যায়।”
এটা মিথ। শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে সাহায্য করে, কিন্তু ত্বকের বাইরের স্তর বাতাসে পানি হারায়। ত্বকে কী লাগাচ্ছেন আর কী বন্ধ করছেন, সেটাই বেশি জরুরি।
৩ / ৪
“হায়ালুরনিক অ্যাসিড ভেজা ত্বকে, ওপরে ময়েশ্চারাইজারসহ সবচেয়ে ভালো কাজ করে।”
এটা সত্যি। এটা ত্বকে পানি টানে। ভেজা ত্বক ধরে রাখার মতো পানি দেয়, আর ময়েশ্চারাইজার সেই পানি শুকনো বাতাসে হারাতে দেয় না।
৪ / ৪
“মুখ কিচকিচে লাগা মানে ঠিকমতো পরিষ্কার হয়েছে।”
এটা মিথ। কিচকিচে ভাব মানে ক্লেনজার ত্বকের নিজের তেল আর ব্যারিয়ারের কিছুটা তুলে ফেলেছে। পরিষ্কার ত্বক নরম আর আরামদায়ক লাগার কথা।
এখনো বুঝতে পারছেন না ত্বকের কী দরকার?
WhatsApp-এ জিজ্ঞেস করুন। বিক্রির চাপ নয়, পরামর্শ দেব।
জিজ্ঞেস করুনএই সমস্যার জন্য আমাদের সব পণ্য দেখুন
এই গাইডে যে পণ্যগুলোর কথা আছে
এগুলো আমরা বিক্রি করি, তাই আমাদের পরামর্শ সেই কথা মাথায় রেখে বিচার করুন।
-37%
-26%
-36%
-42%
-38%
আরও কিছু প্রশ্ন
- শুষ্ক আর পানিশূন্য ত্বকের পার্থক্য কী?
- শুষ্ক ত্বক একটি ধরন, যেখানে তেল কম তৈরি হয়। পানিশূন্য ত্বকে পানির ঘাটতি থাকে, আর তৈলাক্তসহ যেকোনো ধরনের ত্বকে হতে পারে। এসি, আবহাওয়া আর কড়া ক্লেনজারের সাথে আসে-যায়, আর টানটান ভাব ও সূক্ষ্ম রেখা হিসেবে দেখা দেয়।
- পানিশূন্য ত্বক কীভাবে বুঝব?
- মুখ ধোয়ার পর টানটান লাগা, গালে সূক্ষ্ম রেখা যা ময়েশ্চারাইজার দিলে মিলিয়ে যায়, আর দুপুরে মেকআপ ছোপ ছোপ হয়ে যাওয়া। আঙুল দিয়ে গালের ত্বক আলতো ওপরে ঠেললে অনেক সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়লে ত্বকে পানির ঘাটতি আছে।
- তৈলাক্ত ত্বকেও কি ময়েশ্চারাইজার লাগবে?
- হ্যাঁ। তৈলাক্ত ত্বকেও পানির ঘাটতি হতে পারে। হালকা জেল ময়েশ্চারাইজার পানি আটকে রাখে আর ভারী লাগে না।
প্রথম প্রকাশ ।এটি ত্বকের যত্নের সাধারণ পরামর্শ, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ত্বকের কোনো রোগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।