আপনার কোরিয়ান স্কিনকেয়ার আসল না নকল, কীভাবে বুঝবেন
Skinmax · · ৩ মিনিটে পড়া · Read this guide in English
প্রথমে দাম দেখুন: আসল আমদানি করা পণ্যের একটা ন্যূনতম দাম থাকে, যা ব্র্যান্ডের দাম, শুল্ক, ভ্যাট আর শিপিং মিলে তৈরি। তার অনেক নিচে হলে সতর্ক হোন। তারপর দেখুন বাক্স আর বোতলের ব্যাচ বা মেয়াদের কোড মিলছে কিনা, প্রিন্ট পরিষ্কার কিনা, সিল অক্ষত কিনা, আর টেক্সচার ও গন্ধ আসলটির মতো কিনা। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে রাইডারের সামনেই পার্সেল খুলে দেখুন।
কোরিয়ান স্কিনকেয়ার এখানে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে, আর নকলও এসেছে ততটাই দ্রুত। সবচেয়ে পরিচিত পণ্যগুলোই সবচেয়ে বেশি নকল হয়: স্নেইল এসেন্স, হার্টলিফ টোনার, রাইস সানস্ক্রিন। নকল পণ্য হয়তো কোনো কাজই করবে না। আবার এতে এমন কিছুও থাকতে পারে যা জ্বালা করে, বা যা কেউ জেনেশুনে মুখে লাগাবেন না।
আমরা কোরিয়ান স্কিনকেয়ার বিক্রি করি, তাই এই বিষয়ে আমাদের স্বার্থ স্পষ্ট। নিচের প্রতিটি পরীক্ষা যেকোনো বিক্রেতার যেকোনো পণ্যে করা যায়, আমাদেরগুলোসহ।
দামই প্রথমে বলে দেয়
প্রতিটি আসল আমদানি করা পণ্যের একটা ন্যূনতম দাম থাকে। ব্র্যান্ড একটা পাইকারি দাম নেয়, আমদানিকারক শুল্ক আর ভ্যাট দেন, তারপর শিপিং, তারপর পথের প্রত্যেকের কিছুটা লাভ লাগে। প্রতিটি বোতলে লোকসান না দিয়ে কেউ বেশিদিন সেই ন্যূনতমের অনেক নিচে আসল পণ্য বিক্রি করতে পারে না।
তাই কোনো পেজ যখন একটা বিখ্যাত সিরাম সব প্রতিষ্ঠিত দোকানের অর্ধেক দামে বিক্রি করে, তখন সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো এটা নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ, বা কখনো ঠিকভাবে রাখা হয়নি। "সরাসরি কোরিয়া থেকে", "ফ্যাক্টরি দাম" আর "স্টক ক্লিয়ারেন্স" কথাগুলো এমন পেজে অনেক দেখা যায়। সামান্য ছাড় স্বাভাবিক। বিশাল ছাড়ই সতর্কসংকেত।
অর্ডারের আগে
বিক্রেতার নিজের তোলা ছবি দেখুন, ব্র্যান্ডের নয়। যার কাছে আসল স্টক আছে, তিনি আসল বাক্স, পেছনের লেবেল আর ব্যাচ কোডের ছবি তুলতে পারেন। সব ছবি যদি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া চকচকে ব্র্যান্ডের ছবি হয়, তাহলে আসল ইউনিটের ছবি চান। আসল বিক্রেতা আপত্তি করবেন না।
জিজ্ঞেস করুন, যে ইউনিটটা পাঠাবেন তার মেয়াদ কবে। হাতে স্টক থাকলে বিক্রেতা এক মিনিটে বাক্স দেখে বলে দিতে পারেন।
ফেরত দেওয়া যাবে কিনা দেখুন। যে বিক্রেতা না খোলা পণ্যও ফেরত নেন না, তিনি নিজের পণ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী নন।
পার্সেল আসার পর
ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম পেজের ছবির সাথে মিলিয়ে দেখুন। নকল সাধারণত এক নজরে ঠিক লাগে, খুঁটিনাটিতে ভুল ধরা পড়ে।
- প্রিন্ট। আসল প্যাকেজিংয়ে লেখা পরিষ্কার আর সমান। ঝাপসা অক্ষর, একটু অন্যরকম রং, একটু ভিন্ন ফন্টের লোগো, বা ইংরেজি বা কোরিয়ান বানান ভুল পুরনো লক্ষণ।
- ব্যাচ আর মেয়াদের কোড। বেশিরভাগ পণ্যে বাক্সে আর বোতল বা টিউবে আবার ব্যাচ বা লট কোড আর মেয়াদ বা উৎপাদনের তারিখ ছাপা থাকে। দুটো মিলতে হবে, আর ছাপা বা খোদাই করা হতে হবে, অন্য কিছুর ওপর লাগানো আলগা স্টিকার নয়।
- সিল। আবার লাগানো শ্রিংক র্যাপ, খুব সহজে ঘোরে এমন ঢাকনা, বা যে পণ্যে সাধারণত ভেতরের সিল থাকে তাতে সিল না থাকা খেয়াল করুন।
- আকার। ঢাকনার আকার, পাম্পের দৈর্ঘ্য, প্লাস্টিকের রং আর বোতলের মাপ ব্র্যান্ডের ছবির সাথে হুবহু মিলতে হবে।
- QR কোড। অনেক ব্র্যান্ড একটা ছাপে। স্ক্যান করে ঠিকানার ঘর দেখুন: আসল কোড ব্র্যান্ডের নিজের ওয়েবসাইটে যায়, দেখতে কাছাকাছি কোনো ঠিকানায় বা কোথাও না যাওয়া নয়।
খোলার পর
টেক্সচার আর গন্ধ ভালোভাবে নকল করা কঠিন। আগে আসলটা ব্যবহার করে থাকলে মিলিয়ে দেখুন। হঠাৎ বেশি পাতলা বা ঘন সিরাম, অন্য রঙের ক্রিম, সুগন্ধিমুক্ত পণ্যে পারফিউমের গন্ধ, বা যা আলাদা হয়ে যায় বা টক গন্ধ দেয়, সেগুলো বন্ধ করার কারণ।
কোনো পণ্যে পোড়া ভাব, প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জ্বালা বা র্যাশ হলে, নকল মনে হোক বা না হোক, ধুয়ে ফেলুন আর ব্যবহার বন্ধ করুন। প্রতিক্রিয়া বেশি হলে পণ্যটা সাথে নিয়ে ডাক্তার দেখান।
ক্যাশ অন ডেলিভারি এখানে কাজে লাগে
ক্যাশ অন ডেলিভারি অর্ডারে টাকা দেওয়ার আগে ডেলিভারি রাইডারের সামনেই পার্সেল খুলে দেখতে পারেন। সিল, পণ্য আর মেয়াদ দেখুন। কিছু ভুল হলে পার্সেল নেবেন না। আপনি কিছুই দেবেন না, পরে তর্ক করারও কিছু থাকবে না।
আমরা যা করি
আমরা কীভাবে নিজেদের স্টক সংগ্রহ করি, পণ্য তালিকায় তোলার আগে কী দেখি, আর আমাদের কাছ থেকে পাওয়া পণ্য কীভাবে যাচাই করবেন, সব আছে আমাদের অথেনটিসিটি পেজে। আমাদের কাছ থেকে কেনা কিছু যদি আপনার কাছে ভুল মনে হয়, বাক্স, ব্যাচ কোড আর পণ্যের ছবি পাঠান, আমরা নিজেদের স্টকের সাথে মিলিয়ে দেখব।
যে পণ্য দিনে দুইবার মুখে লাগাবেন, তার সবচেয়ে কম দাম খোঁজার চেয়ে ভরসা করা যায় এমন ছোট পরিসর থেকে কেনা ভালো। আসলে কোন পণ্য দরকার নিশ্চিত না হলে আমাদের স্কিন টেস্ট আর রুটিনের ক্রমের গাইড দিয়ে শুরু করতে পারেন।
আরও কিছু প্রশ্ন
- আসল কোরিয়ান স্কিনকেয়ার কীভাবে চিনব?
- ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল ছবির সাথে বাক্স মিলিয়ে দেখুন, বাক্স আর বোতলের ব্যাচ কোড এক কিনা দেখুন, প্রিন্ট পরিষ্কার আর সিল অক্ষত কিনা দেখুন। পরিচিত দোকানের চেয়ে অনেক কম দাম হলে সতর্ক থাকুন। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে রাইডারের সামনে পার্সেল খুলে দেখুন।
- নকল স্কিনকেয়ার ব্যবহার করলে কী সমস্যা হতে পারে?
- নকল পণ্য কোনো কাজ নাও করতে পারে, আবার এতে এমন উপাদানও থাকতে পারে যা জ্বালা, র্যাশ বা ব্রণ তৈরি করে। জ্বালা করলে সাথে সাথে ধুয়ে ফেলুন, ব্যবহার বন্ধ করুন, আর বেশি সমস্যা হলে ডাক্তার দেখান।
- ফেসবুকে কম দামের কোরিয়ান স্কিনকেয়ার কি নকল?
- সবসময় নয়, তবে প্রতিষ্ঠিত দোকানের চেয়ে অনেক কম দাম নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ, কারণ আসল আমদানির একটা ন্যূনতম দাম থাকে, যা ব্র্যান্ডের দাম, শুল্ক, ভ্যাট আর শিপিং মিলে তৈরি।
প্রথম প্রকাশ ।এটি ত্বকের যত্নের সাধারণ পরামর্শ, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ত্বকের কোনো রোগ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।